ডিপ্রেশন্
সৌমেন সরকার
রক্ত চলাচলকারী শিরা-উপশিরাগুলো,
বেরিয়ে আসতে চায় যেন ব্রহ্মতালু ফেটে!
অসম্ভব যন্ত্রণা কপালের দু-পাশে,শিরাগুলো
ফুলে উঠেছে মোটা হয়ে, রক্তের চাপ গিয়েছে বেড়ে!
মনের মধ্যে এলোমেলো চিন্তাগুলো পাক খাচ্ছে;
আর ঘুণপোকারা করছে মিটিং, মিছিল, ব্যারিকেড!
‘না’ আর ‘হ্যাঁ’ এর মাঝে প্রবল দ্বন্দ্বের সূত্রপাত,
আমার নিজের অস্তিত্ব নিয়ে হচ্ছে প্রবল সংশয়।
দোটানায় পোড়ে মনটা আজ খন্ড-বিখন্ড
চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে গুঁড়িয়ে পড়তে চায় প্রতি মুহূর্তে!
ঘুমটা ডিভোর্স দিয়ে পালিয়ে গেছে কারো সাথে,
বুকের বা পাশের ধুক্ পুক্ শব্দ ম্লান হয়ে আসছে
দাঁতে দাঁত কামড়ে পড়ে আছে কৌচে, একা!
চাইলেও দু-চোখের পাতা করতে পারছিনা এক;
চিন্তারা নিজেদের সরিয়ে নিয়েছে আমার থেকে
চোখ জল শুকিয়ে হয়েছে মরুপ্রবণ, ধূসর; ধূ ধূ!
এক ফোটাঁ জল এগিয়ে দেবারও লোক নেই।
শেষে আর ভাববার মত ধৃষ্টতা দেখালাম না,
ছুটে গিয়ে জড়িয়ে ধরলাম
তোমায়,
যা
হবে দেখা যাবে!
যদি
সৌমেন সরকার
যদি –
তুমি বুকের বাম দিকে ডান হাত রেখে
একবার বল, তুমি আমাকে ভালবাসোনা;
তবে আমি চিরতরে বিলীন করে দেব –
আমার স্মৃতির অস্তিত্ব তোমার মন থেকে।
যেখানে সুখ-দুঃখ চিরদিন ধুকপুক করত,
সেখানে দেব বন্ধের তলোয়ার বিঁধিয়ে;
প্রেমের পঞ্চ পুষ্পশর যেখানে বিঁধেছিল, সেখানে
থাকবে স্পন্দনহীন শূন্যতা,স্বপ্নহীন নীরবতা!
যে চোখ তোমার জন্য গিলেছে অপেক্ষার সাগর,
যেখানে তোমাকে একবার দেখার জন্য
চাতক পাখির মত ইচ্ছারা ডানা মেলত আকাশে;
সেই দু’চোখ হয়ে যাবে প্রাণহীন নিঃস্পৃহ।
আবেগে যেভাবে তোমাকে এঁকেছি, সেখানে
পড়বে শূন্যতার ছায়া; থাকবেনা কোনো ইচ্ছেডানা!
যেখানে তোমার জন্য সাত সাগর তের নদী
পারের দুর্নিবার আকর্ষণ থাকত, সেখানে থাকবে
মৃত্যুর মত কালো গভীরতম এক অন্ধকূপ!
যে দু’হাতে তোমাকে এক সময় চড়িয়েছি আহ্লাদে
ঘুরিয়েছি দিকদিশাহীন ভাবে, তুমি ভয়ে জড়িয়ে
ধরেছ দু’চোখ বুজে। সেই দুহাত যাবে আড়ষ্ট হয়ে;
নিজেরাই আমাকে জড়িয়ে ধরবে শক্ত করে।
যদি
তুমি বল,
শুধু
একবার বল –
তুমি আমায় ভালবাসোনা,
কোনদিন ভালবাসোনি।
(বনগাঁ, উত্তর চব্বিশ পরগনা)

