অন্য কথা
বলাই দাস
অপেক্ষা করতে করতে দু'তিনটা বাস মিস্ হলো তবু
ও আসছে না।
চেয়ে আছি তীর্থের কাকের
মতো আজ প্রথম পিরিয়ড মনে হয় মিস্ হবে! অনেক দূর থেকে এবার ওকে দেখতে পেলাম।
- বাব্বাঃ, তোর
এত দেরি হলো আজ? কি ব্যাপার?
- আর বলিস নারে, কিছুদূর এসে সাইকেলটা বিট্রে করল সামনের চাকা ব্রাস্ট্ –
- তোর
অপেক্ষায় থাকতে থাকতে কতগুলো বাস মিস্ করলাম। মনে হয় ফার্স্ট পিরিয়ড ধরতে পারবোনা।
- কেন তুই আমার জন্য অপেক্ষা করলি! কি দরকার বলে ফেল।
- দ্যাখ এই বাস স্ট্যান্ডে এত লোকের ভীড়-ভাট্টায় এসব
কথা....
- আচ্ছা কি এমন জরুরি কথা এখানে বলা যাবে না!
- দ্যাখ নীলিমা, এই ভালোবাসা আই লাভ ইউ এসব কিন্তু নয়।
- যা বাব্বা বাঁচালি!
- তবে কি কথা? বল?
- শোন না, আমি
না নিজের মুখে বলতে পারবো না ভীষণ লজ্জা পাচ্ছে ছেলেগুলো না এরকমি, মেয়ে দেখলে কেমন যেন ছোঁক, ছোঁক করে।
- যদি এত লজ্জা তাহলে এসব কেন বাপু!
- তোর হাতটা দেখি। এটা লুকিয়ে রাখবি লুকিয়ে পড়ে আমায় জানাবি।
কলেজ থেকে বাড়ি ফিরে নীলিমা অরুণের চিঠি খুলে পড়তে লাগলো বড়
বড় অক্ষরে লেখা- "ঠকালাম তোকে। আজ পহেলা
এপ্রিল। ভালো থাকিস।”
নীলিমা এমন মুর্খামিতে ভীষণ লজ্জা পেল। অরুণের ট্যালন্টের কাছে মনের অজান্তে কখন যেন ওকে ভালোবেসে ফেলেছে।
(শান্তিপুর, মেচেদা, পূর্ব মেদিনীপুর। কুয়েত
থেকে।)

