লেখা আহ্বান


কবিতা, ছড়া, অণু গল্প, গল্প পাঠান আগামী সংখ্যার জন্য ৩১ আগস্টের মধ্যে। পরিণত স্বরচিত অপ্রকাশিত লেখাই পাঠাবেন নিজের ঠিকানা ও একটি প্রফাইল ছবিসহ। ইমেল : info2hhm@gmail.com এ।


দ্বিতীয় সংখ্যা শীতকাল সংখ্যা

Monday, December 24, 2018

সৌমেন সরকার-এর দু'টি অনুগল্প



গঙ্গা আর ফিরবে না
সৌমেন সরকার

গতকাল রাত থেকে গঙ্গাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। পাঁচ বছরের ছোট্ট একরত্তি মেয়েটা যে কোথায় গেল তার কোন পাত্তাই যেন মিলছেনা। ওর বাবা স্থানীয় থানায় কমপ্লেন করেছে, এই দুদিন যাবৎ সারা বসিরহাট এলাকা চষে ফেলেছে, তবুও তার খোঁজ মেলেনি। কাউন্সিলার থেকে শুরু করে মন্ত্রী সকলেই আশ্বাস দিয়েছে তাকে খুঁজে দেবার।

চারিদিকে হিন্দু-মুসলিমের দাঙ্গা হাঙ্গামা চলছে ফেসবুকে ছবি না কি একটা পোস্ট করা নিয়ে-গঙ্গার বাবা সেসব বোঝে না। তার একটা ছোট চায়ের দোকান। ওর মায়ের হাল এই দুদিনেই কেঁদে কেঁদে মৃতপ্রায় হয়ে উঠেছে।

তিনদিন কেটে গেল। অবশেষে গঙ্গার খবর পাওয়া গেল। স্থানীয় পুলিশ এসে জানাল যে, মিসিং রিপোর্ট লেখানোর তিনদিন পর তার খোঁজ মিলেছে। একটা পুরোনো বাড়ীর কুঁয়ো থেকে তার টুকরো টুকরো দেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ!

ওর বাবা ভাবল, তিনদিন আগেই তো যখন বসিরহাটের নানান প্রান্ত থেকে হিন্দু-মুসলমানের খুনোখুনির খবর আসছিল তখন গঙ্গা ওই দিকেই পুরোনো বাড়ীটার কাছে সকলের চোখের আড়ালে চলে গিয়েছিল।

কাউন্সিলার থেকে মন্ত্রী-সকলে এসে সমবেদনা জানিয়ে গেলেন। কথা দিলেন এর একটা বিহিত হবেই। গঙ্গার বাবার হাতে দিলেন একটা এক লক্ষ টাকার চেক ক্ষতিপূরণ হিসাবে! গঙ্গার মায়ের জ্ঞান ফিরছে না, গঙ্গার বাবা দুচোখে সবকিছু ঝাপসা দেখছে। চেকের শক্ত কাগছটা তার কাছে একটা ছোট্ট রাখী বলে মনে হল!





চক্রাবর্তন
সৌমেন সরকার


বৃদ্ধাশ্রমের একটা শূন্য ঘরের কোণের খাটে শুয়ে নস্টালজিক হয়ে পড়লেন বছর পঁয়তাল্লিশের বৃদ্ধা সুমিতা নন্দী। যখন তাঁকে এখানে দিয়ে যায় তার একমাত্র ছেলে দীলিপ, তখন তার একমাত্র নাতি সৌরভের মুখটা মনে পড়ে। বৌমা শ্রেয়া কান্নায় ভেঙে পড়া সৌরভকে টেনে নিয়ে যায় তার বুক থেকে।

সে ফিরে যায় বছর পঁচিশ আগে। মনে পড়ে যায় তার কর্মকাণ্ড। সংসারে আসার বছর দেড়েকের মধ্যে দীলিপ পৃথিবীতে আসে। আর তখন থেকেই সুমিতা, তার স্বামীকে বলতে থাকেন   "এই আপদ দুটোকে আমি আর টানতে পারব না। তুমি কিছু একটা ব্যবস্থা কর। বৃদ্ধাশ্রম দিয়ে এসো ওদের।"

- "কি সব যাতা বলছ। আমাকে মানুষ করার জন্য সারা জীবনে ওরা যা স্যাক্রিফাইস করেছে তা আমি ভুলব কি করে। স্বার্থপর হয়ে এমন কাজ অন্তত আমি করছি না।"

বছর পাঁচেক পর সুমিতা দেবীর শ্বশুর মারা যান।আর তার পর থেকে তার স্বামীর জীবন তিনি অতিষ্ট করে তোলেন। শর্ত জানিয়ে আল্টিমেটাম দিয়ে জানান "মা অথবা বৌকে বেছে নিতে হবে!"

শেষে বৌ কেই বেছে নেন তার স্বামী। বৃদ্ধাশ্রমে রেখে আসেন। মাসে টাকা পাঠান। তখন দীলিপ ছোট্ট শিশু। শুধু বলেছিল- "মা, বাবা ঠাম্মিকে তোমরা তাড়িয়ে দিচ্ছ কেন। তাহলে আমিও বুঝি বিয়ের পর তোমাদের তাড়িয়ে দেব এভাবেই?"


তবে তাকে এখানে দিয়ে যাওয়ার আগে সম্পত্তি সব নিজের নামে লিখিয়ে নেয় তার ছেলে দীলিপ। সেই আইডিয়াটা অবশ্য তার বৌমার, এখন তিনি এতে সম্পূর্ণ নিঃসন্দেহ। এখন সেসব কথা ভেবে অশ্রু বিসর্জন করছেন সুমিতা দেবী। যদি আর পঁচিশ তিরিশ বছর তিনি বাঁচেন তবে হয়ত এই বৃদ্ধাশ্রমেই দেখা হয়ে যেতে পারে তার ছেলে বৌমার সাথে!

Disqus Comments
advt top home

দ্বিতীয় সংখ্যা => শীতকাল সংখ্যা || সম্পাদকীয়

শীতকাল সংখ্যা – সম্পাদকীয় শীত সংখ্যার পর যুথিকা সাহিত্য পত্রিকার দ্বিতীয় ওয়েব ম্যাগ শীতকাল সংখ্যা প্রকাশিত হল। ব্যস্ততায় সময়ে...

যুথিকা ওয়েবম্যাগের কবি ও লেখকবৃন্দ

অজয় হালদার অণুশ্রী দাস অপর্ণা নাথ অমরজিৎ মণ্ডল অমৃতা বিশ্বাস সরকার অযান্ত্রিক অরুণিমা মন্ডল দাস অসীম সরকার ইতিকা বিশ্বাস খুশবু আহমেদ চিরনজিৎ সরকার ডঃ.রমলা মুখার্জী ডা: তাপসী ভট্টাচার্য্য তাপসকিরণ রায় তৈমুর খান তোফায়েল তফাজ্জল দেবপ্রসাদ বসু নারায়ণী দত্ত পিনাকী বসু প্রবীর কুমার চৌধুরী বলাই দাস মহঃ বাদল গাইন মিলি দাস মুনমুন মুখার্জ্জী মেহেদি হাসান মোল্লা মোহাঃ বেলালউদ্দিন মন্ডল মৌসুমী ভৌমিক রতন বসাক রূপালী গোস্বামী শম্পা দাস শাহানাজ শাম্মী সোনালী শিখা চৌধুরী শিলাবৃষ্টি ষষ্ঠী কুমার দাস সত্যেন্দ্রনাথ পাইন সফিকুজ্জামান সিদ্ধার্থ সিংহ সুধাংশুরঞ্জন সাহা সুমন্ত কুন্ডু সৌমেন সরকার স্নিগ্ধা ব্যানার্জী স্বপন কুমার নাগ স্বরূপা রায় স্মৃতিমাধুরী দাস হাবিবা খাতুন